ফাঁকা বাসার নিরাপত্তায় যে কাজগুলো করবেন

টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি। অনেকেই গ্রামে যাবেন, কেউ কেউ যাবেন ঘুরতে। আর এই সময়ে ফাঁকা বাসায় চোরের উপদ্রব বাড়ে প্রতি বছর। তাই ছুটিতে বাসা ছাড়ার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। যারা বাসাবাড়ি ছেড়ে দূরে যাচ্ছেন ঈদের ছুটিতে বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের বেশ কিছু বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হবে।
পাসওয়ার্ডনির্ভর বা ডিজিটাল তালা ব্যবহার করুন: পাসওয়ার্ডনির্ভর বা ডিজিটাল তালা ব্যবহার করলে অনেকাংশে নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন। এই তালা মুঠোফোনের অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাইরের দরজায় পাসওয়ার্ডনির্ভর তালা ব্যবহার করুন। এবং বাসার ভেতরের জানালা দরজাগুলোও ভালোভাবে বন্ধ করে দিন।
প্রয়োজনে ব্যাংক লকারের সহায়তা নিন: অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী ও দলিল নিরাপদ স্থানে বা নিকট আত্মীয়ের হেফাজতে রেখে যেতে পারেন। প্রয়োজনে ব্যাংক লকারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
গ্যাস ও পানির লাইন: ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে গ্যাস সিলিন্ডার অথবা গ্যাসের লাইন বন্ধ করে বের হবেন। এমনকি বাড়ি থেকে ফিরে এসে চুলা জ্বালানোর আগে বাসার দরজা-জানালা খুলে দিন। এতে বাসার ভেতরে গ্যাস জমে থাকলেও বের হয়ে যাবে। পানির কল ভালোভাবে বন্ধ হয়েছে কি না, সে ব্যাপারেও নজর রাখবেন।
সিসিটিভি ক্যামেরা মুঠোফোনের সঙ্গে সংযুক্ত করুন: দূরে থেকেও বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা সংযোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিসিটিভি ক্যামেরা মোবাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করে নিতে পারেন। তাহলে যতদূরেই থাকুন না কেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ফিড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করত হবে। অস্বাভাবিক কিছু দেখা গেলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে।
বৈদ্যুতিক সংযোগ ভালোভাবে পরীক্ষা করুন: কয়েকদিনের জন্য বাইরে চলে যাচ্ছেন। এই সময় ঘরে যাতে শর্টসার্কিটের মতো ঘটনা না ঘটতে পারে এজন্য এসি, টেলিভিশন, ইলেকট্রিক কেটল, ওভেন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সুইচ বন্ধ করে যেতে হবে। এবং অপ্রয়োজনীয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এ ছাড়া ফ্রিজের প্লাগ সঠিকভাবে সংযুক্ত রয়েছে কি না, নিশ্চিত করুন।
বিশ্বস্ত প্রতিবেশীকে জানান: যদি ফ্ল্যাটে থাকেন, তাহলে বিশ্বস্ত প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। যাতে কোনো অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করলে দ্রুত তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন। আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোনো অপরিচিত ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে দ্রুত স্থানীয় থানায় জানাতে বলুন।
বাড়ির দারোয়ানকে সতর্ক করুন: ফুড ডেলিভারি বা অনলাইন পার্সেল পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনেকে ছদ্মবেশে অপরাধ করার চেষ্টা করতে পারে। তাই যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পার্সেল বা অপ্রত্যাশিত ফুড ডেলিভারির লোক আসে, সেক্ষেত্রে বাড়ির দারোয়ানদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলুন। সার্বক্ষণিক সিকিউরিটি গার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করুন।
পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করুন: বাসাবাড়ির আশপাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখুন। চুরি বা অন্য কোনো অপরাধ রোধ করতে উজ্জ্বল আলো অনেক সহায়ক।
বাসায় একা না থাকাই ভালো: ঈদের ছুটিতে অনেকে ফাঁকা বাসায় একা থাকেন। এ সময় একা না থেকে সম্ভব হলে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে থাকুন।
সম্প্রতি ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জরুরি প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তার জন্য ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের নম্বর দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো, ০১৩২০-০৩৭৮৪৫, ০১৩২০-০৩৭৮৪৬, ২২৩৩৮১১৮৮, ০২৪৭১১৯৯৮৮, ০২৯৬১৯৯৯৯ এবং জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯।
সম্পর্কিত সংবাদ

ঈদে ত্বকে রোদের পোড়াভাব দূর করুন এই ৩ সবজিতে
গরমে সুস্থ থাকতে বেশি করে সবজি খাওয়ার বিকল্প নেই। তবে সবজি যে কেবল শরীরের খেয়ালবিস্তারিত…

ইফতারে মজাদার লাচ্ছি
প্রকৃতিতে একটু একটু করে বাড়ছে তাপমাত্রা। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে কমবেশি সবারই মন চায়বিস্তারিত…